Showing posts with label Kolkata. Show all posts
Showing posts with label Kolkata. Show all posts
জঙ্গলমহল থেকে কেন সরানো হল, কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে ভারতী ঘোষ

জঙ্গলমহল থেকে কেন সরানো হল, কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে ভারতী ঘোষ

ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতে আইপিএস ভারতী ঘোষ। কোনও কারণ না দেখিয়ে তাঁকে জঙ্গলমহলের ওএসডির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই অভি‌যোগ ভারতী মামলা করলেন কলকাতা হাইকোর্টে।

নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়ে রাজ্যে একাধিক আইপিএস, আইএএসকে বদলি হয়ে ‌যান। তাঁদের মধ্যে কেউই এখনও প‌র্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হননি। কিন্তু আদালতে গেলেন আইপিএস ভারতী ঘোষ। তাঁর অভি‌যোগ, কোনও অনুসন্ধান না করেই তাঁকে জঙ্গলমহলের ওএসডি-র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভি‌যোগের তদন্ত ‌যদি হয়েও থাকে তাহলে তা তাঁকে জানানো হয়নি বলে অভি‌যোগ করলেন ভারতী।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ জঙ্গলমহল থেকে ভারতী ঘোষকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সিআইডির এসএস পদে। শুধু তাই নয় জঙ্গলমহল থেকে ওএসডির পদটাই তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন।
রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দফায় দফায় জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু দেখা ‌যায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্টের সঙ্গে রাজ্যের এসপিদের দেওয়া রিপোর্ট মিলছে না। তার পরই একের পর এক এসপিকে বদলি করে দেয় কমিশন। সেই বদলির কোপে পড়ে ‌যান ভারতী ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভি‌যোগ ছিল তা তাঁকে জানানো হয়নি বলে তিনি অভি‌যোগ করেছেন। তবে রাজ্য প্রাশাসনিক মহলের খবর মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি রয়েছে ভারতীর।

নারদ-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ২৯শে, চাপে তৃণমূল

নারদ-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ২৯শে, চাপে তৃণমূল

ভোটের মধ্যেই নারদ-কাণ্ড নিয়ে আরও চাপ বাড়ছে তৃণমূলের উপর।
কলকাতা হাইকোর্টের পর নারদ-কাণ্ড নিয়ে এ বার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হতে চলেছে। শুক্রবার ওই মামলার শুনানি হবে। একই সঙ্গে রাজ্যসভার এথিক্স কমিটি যাতে নারদ-কাণ্ডে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্যোগী হল সিপিএম।

গত সপ্তাহেই নারদ-কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদদের অপসারণ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। আজ প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুরের সামনে এই বিষয়টি উল্লেখ করেন আইনজীবী অশোক ভান ও শুভাশিস ভৌমিক। যুক্তি দেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচন চলছে। কাজেই দ্রুত বিষয়টির শুনানি হোক। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানিতে সম্মত হন।
কলকাতা হাইকোর্টে নারদ-কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা চলছে। তিন সদস্যের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। যেখানে নারদ নিউজের অধিকর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল যাবতীয় অসম্পাদিত ভিডিও জমা দিয়েছেন। ম্যাথুর হলফনামা বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনও বক্তব্য থাকলে তা ২৭ এপ্রিলের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলাকারী বিপ্লব চৌধুরী আবেদন জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা ও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। একইসঙ্গে তাঁদের বিধায়ক বা সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ জারি হোক। ভবিষ্যতেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা জারি হোক।
তৃণমূলের অভিযুক্ত সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ করাতে বদ্ধপরিকর সিপিএম-ও। লোকসভার ছ’জন সাংসদের বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটি তদন্ত শুরু করলেও রাজ্যসভার এথিক্স কমিটিতে বিষয়টি পাঠানো হয়নি। বাজেট অধিবেশনের প্রথমার্ধে এ বিষয়ে সীতারাম ইয়েচুরি প্রশ্ন তোলায় ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়েন যুক্তি দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজি না হলে তাঁর কিছু করার নেই।
আজ রাজ্যসভার এথিক্স কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সরব হন ইয়েচুরি। যুক্তি দেন, কমিটি নিজেই তদন্ত শুরু করুক। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত মুকুল রায় নিজেই এথিক্স কমিটির সদস্য। মুকুল আজকের বৈঠকে হাজির ছিলেন না। বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেস বা বিজেপি সাংসদরাও এ বিষয়ে আপত্তি তোলেননি। কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যান কর্ণ সিংহ যুক্তি দেন, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করলেও নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তা কমিটির কাছে পাঠালেই তদন্তের কাজ শুরু করা সম্ভব।
বৈঠকের পরে ইয়েচুরি বলেন, ‘‘আমাদের মতে, নিয়ম অনুযায়ী কোনও বিষয় এথিক্স কমিটির কাছে পাঠাতে হলে সরকারি মতামতের প্রয়োজন নেই। আবার নরেন্দ্র মোদী থেকে বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে গিয়ে বলছেন, রাজ্যসভার এথিক্স কমিটিতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কংগ্রেস-সিপিএম এ বিষয়ে সরব হয়নি। আমরা তাই নতুন করে সরব হব। রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। দরকারে চেয়ারম্যানের কাছেও আলাদা করে চিঠি লেখা হবে।’’
জিত কার, অগ্নিপরীক্ষায় সিন্ডিকেট পাড়া

জিত কার, অগ্নিপরীক্ষায় সিন্ডিকেট পাড়া

এ যেন চোর-পুলিশ খেলা!

এক দিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে পুলিশের তৎপরতা। আবার নিরাপত্তায় মোড়া সেই সব এলাকায় ভোট-পর্বে ‘কাজ হাসিল’ করার মরিয়া চেষ্টা সিন্ডিকেট বাহিনীর। রাজারহাট, নিউ টাউন, বিধাননগর — তিন বিধানসভা কেন্দ্রে সেই খেলাই শুরু হয়ে গিয়েছে শনিবার রাত থেকে।
নির্বাচন কমিশনের গুঁতোয় সে সব অঞ্চলে আদা-জল খেয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিধাননগরে গত পুর-নির্বাচনে কালি লেগে গিয়েছিল পুলিশের ভাবমূর্তিতে। পুলিশের চোখের সামনে সে দিন তৃণমূল নেতাদের মদতে সল্টলেক জুড়ে দাপিয়ে বেরিয়েছিল বহিরাগত যুবকের দল। সে দিন ভোট দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিধাননগরের সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন সাংবাদিকেরাও। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেই ঘটনাকে ধিক্কার জানানো হয়েছিল। সমালোচনার মুখে পড়েছিল পুলিশের ভূমিকা। এ বার সেই কালি মুছতে মরিয়া পুলিশ। শেষ পর্বে, গত ২১ এপ্রিল উত্তর কলকাতার নির্বাচনের দিন কলকাতা পুলিশের তৎপরতা দেখে বিধাননগরের পুলিশও অনেকটাই সাহস পেয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা। সে দিন কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় লাঠি মেরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যত্রতত্র জটলা করা শাসক দলের সমর্থকদের। সেই পথ বেছে নিচ্ছে বিধাননগর কমিশনারেটও।
শনিবার রাতে কেষ্টপুরের একটি ক্লাবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিযান চালিয়ে দেখতে পায়, সেখানে তখন সবে মদের আসর শুরু হয়েছে। জনা ২০ যুবক বসেছেন আসর সাজিয়ে। পুলিশের অনুমান, সোমবার ভোটের ‘কাজ হাসিল’-এর পরিকল্পনা করতেই ওই সমাবেশ। সূত্রের খবর, তাদের কথা বলার বেশি সুযোগ না দিয়েই কার্যত পিটিয়ে মদের আসর বন্ধ করে পুলিশ। মঙ্গলবারের আগে সেই ক্লাবে জমায়েত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক পুলিশকর্তার দাবি, শুধু কেষ্টপুর নয়, রাজারহাট জুড়ে এমন যত ক্লাবে শনি ও রবিবার জমায়েত হয়েছিল, সিন্ডিকেটের যে সব ছোটখাটো ডেরায় রাতে আসর বসেছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে সেই সব এলাকা ফাঁকা করে দিয়েছে পুলিশ। নিউ টাউনে এমন ১৮টি ক্লাবের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। আসর সাজিয়ে বসা এমন ৪৪ জনকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে শনিবার রাতে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩৫ জন গ্রেফতারও হয়েছে।
রাজারহাট, নিউ টাউন, সল্টলেক এলাকায় সব নির্মীয়মাণ বাড়িতেও হানা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ, নির্বাচনের সময়ে এই সব বাড়িতে অনেক বাইরের লোক শ্রমিক সেজে থাকেন। নির্বাচনের দিন সকালে নিজেদের কাজ সেরে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে যান। বিধাননগরের গত পুর-নির্বাচনেও এই ভাবে নির্মীয়মাণ বাড়িতে যুবকদের জড়ো করে রাতে চড়ুইভাতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সব বাড়িতে গিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, শুধু যে শ্রমিকদের ওই এলাকায় বাড়ি, তাঁরা এবং বাড়ির দারোয়ান ছাড়া অন্য কেউ ওই বাড়িতে থাকতে পারবেন না।
রবিবার দুপুরে নিউ টাউনের চাঁদপুরে সিন্ডিকেটের চাঁই গফ্‌ফর মোল্লা ওরফে মাটি গফ্‌ফরের বাড়িতে ধাওয়া করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। গফ্‌ফরের বিরুদ্ধে এমনিতেই খুনের অভিযোগ ঝুলছে। তার উপরে অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের এই নেতা তৃণমূলের হয়ে ভোট করানোর পরিকল্পনা করে রেখেছেন। গফ্‌ফর শনিবার সকাল থেকেই বাড়িতে নেই বলে জানান তাঁর স্ত্রী আকলিমা বিবি।
গফ্‌ফরের মতো সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত যত চাঁই, যাঁরা এই ভোটে ‘সক্রিয়’ হতে পারে বলে আগাম খবর, তাদের এলাকাতেও হানা দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে। যেখানেই একসঙ্গে পাঁচ জন যুবকের জটলা দেখা গিয়েছে, সেখানেই তাড়া করা হয়েছে তাঁদের। তল্লাশির হাত থেকে বাদ যায়নি এলাকার হোটেল, গেস্ট হাউস, মেস। পুলিশ সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি গেস্ট হাউসে এমন সব অতিথি পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা সেখানে থাকার যথেষ্ট কারণ দেখাতে পারেননি। তাঁদের পত্রপাঠ সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সব গেস্ট হাউসের মালিক ও ম্যানেজারদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সব গেস্ট হাউস ও হোটেলে আবার হানা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। বলা হয়েছে, এই তিন বিধানসভা এলাকায় ক্রমাগত টহল দিচ্ছে পুলিশের গাড়ি। তারাই মাঝেমধ্যে ওই হোটেল, গেস্ট হাউসে গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
এই মারাত্মক চাপের মুখে পাল্টা ঘুঁটি সাজানোর মরিয়া চেষ্টাও চলছে। সেই কাজে শাসক শিবির অনেকটাই এগিয়ে। শোনা গিয়েছিল, কলকাতার বেশ কয়েক জন তৃণমূল কাউন্সিলর এ বার বিধাননগরে গিয়ে ভোট করাবেন। যেমনটি তাঁরা গত পুর-নির্বাচনে করিয়েছেন। কিন্তু শাসক দলের একাংশই বলছে, পুলিশের এই তৎপরতায় রীতিমতো কাঁপুনি ধরেছে শাসক শিবিরেও। ফলে রাস্তায় নেমে ভোট ‘করানোর’ খেলায় অনেকেই এখন ওয়াকওভার দিয়ে দিচ্ছেন। বিধাননগরে যেতে চাইছেন না অনেকেই। আশপাশের দুই জেলা থেকে যাঁরা বুকে সাহস নিয়ে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদেরও আড়ালে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কা, কোনও কারণে এঁদের কেউ ধরা পড়ে গেলে পরে নিজেদের এলাকায় এঁরা ভোট করাতে পারবেন না। তাতে আরও বিপদে পড়ে যাবে শাসক দল।
এত পুলিশি কড়াকড়ি সত্ত্বেও রবিবার বিকেলের পর থেকেই রাজারহাটের দশদ্রোণ, ইউনিটেকের কাছে বিভিন্ন বাড়িতে বহিরাগতদের এনে জড়ো করার অভিযোগ উঠেছে মূলত শাসক দলের বিরুদ্ধেই। বেশ কিছু জায়গা থেকে সংঘর্ষের খবরও আসতে শুরু করেছে। রাতের দিকে কিছু এলাকা থেকে বুথ দখলের চেষ্টা-সহ নানা ধরনের অভিযোগ আসতে থাকে। যেমন ভারতীয় বিদ্যাভবন স্কুলের বুথের ভোটারদের বাড়ি থেকে না বেরোনোর হুমকি দেওয়া অভিযোগ ওঠে এলাকার তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের তরফে অভিযোগ নস্যাৎ করতে সময় লাগেনি। তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়ির মধ্যে বুথ দখল যে করা যাবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত শাসক দল। তাই প্রক্সি ভোট যথাসম্ভব নিশ্চিত করার কথা ভাবা হয়েছে। কিছু এলাকায় প্রকৃত ভোটারের ভোটার কার্ড তৃণমূলের নেতারা হস্তগত করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। সঙ্গে চলছে পাড়ায় পাড়ায় হুমকি। এ সব অভিযোগও অস্বীকার করেছে তৃণমূল। দলের এক নেতা অবশ্য জানিয়েছেন, বিধাননগর কেন্দ্রের সল্টলেকে তাঁদের ভরাডুবি হবে বলে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। ফলে বিধাননগর কেন্দ্রে জিততে হলে লেকটাউন ও দক্ষিণদাঁড়িতে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। সেই কারণে ‘যা করার’ ওই দু’টি এলাকায় করতে হবে। কী করবেন? নেতার কথায়, ‘‘দেখুন না, সোমবার কী হয়।’’
সূত্রের খবর, আজ, সোমবার যে সব গাড়িতে কমিশনের আধিকারিকদের দাপিয়ে বেড়ানোর কথা, সেই গাড়ির চালকদেরও ‘বুঝিয়ে’ রাখা হয়েছে বলে নেতাদের দাবি। কোথাও কোনও ঘটনার অভিযোগ পেলে কমিশনের লোকজন ঘটনাস্থলে যাতে দেরি করে পৌঁছোন, তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে ওই চালকদের হাতে।
জোটের মাস্টার স্ট্রোক, এক মঞ্চে বুদ্ধ-রাহুল?

জোটের মাস্টার স্ট্রোক, এক মঞ্চে বুদ্ধ-রাহুল?

নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং রাহুল গাঁধীকে এক মঞ্চে হাজির করে এ বার মাস্টার স্ট্রোক দিতে চাইছে জোট-শিবির।
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ এপ্রিল পার্ক সার্কাস ময়দানের সভায় হাজির থাকবেন ওই দুই নেতা। সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, বুদ্ধদেববাবু ওই সভার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।
জোট প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটপ্রচারে দু’পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বকে এক মঞ্চে হাজির করতে গোড়া থেকেই তত্পর হয়েছিল কংগ্রেস। প্রথম দিকে বামেদের তরফে তেমন একটা উত্সাহ দেখানো হয়নি। তবে, পরের দিকে জোট প্রার্থীদের প্রচারে কংগ্রেসের পাশে বাম নেতৃত্বকে দেখা গিয়েছে। এর আগে বংশগোপাল চৌধুরী বা গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাকে দেখা গিয়েছে রাহুলের বর্ধমানের সভায়। তাঁর বসিরহাটের সভায় দেখা গিয়েছে সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত ভট্টাচার্যকেও। তবে, একই সভায় বুদ্ধদেববাবু এবং রাহুলের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে যে অন্য মাত্রা এনে দেবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
গোড়া থেকেই বুদ্ধদেববাবু জানিয়েছিলেন, তিনি এ বারের প্রচারপর্বে অংশ নেবেন না। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দলীয় কর্মীদের অনুরোধ সযত্নে সরিয়েও দিয়েছিলেন। একমাত্র ব্যতিক্রম গত ১৯ তারিখ ‘রোড-শো’। কসবা, টালিগঞ্জ এবং যাদপুরের জোটপ্রার্থীর সমর্থনে ওই রোড শোতে অংশ নেন তিনি। ঢাকুরিয়া থেকে গড়িয়া পর্যন্ত সেই রোড-শোতে কয়েক হাজার বাম কর্মী-সমর্থককে দেখা যায়।
সরকার গড়বে তারা

সরকার গড়বে তারা

এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়!
চতুর্থ দফা ভোট শেষ হওয়ার তখনও ঘণ্টাখানেক বাকি। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, তাঁর দল এই চার দফাতেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিজেদের ঘরে তুলে নিতে পেরেছে। এখনও দু’দফা ভোট বাকি রয়েছে। মমতার দাবি, ওই দুই দফায় যে ক’টি আসন পাওয়া যাবে তা ‘ম্যাজিক ফিগার’-এ বাড়তি সংখ্যা যোগ করবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা হিসেব করে ফেলেছি। আপনারা ভোটের ফল প্রকাশ পেলে মিলিয়ে নেবেন।’’
তিনি যখন এই দাবি করছেন, তখন প্রায় একই সুরে কথা বললেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সোমবারের আগে পর্যন্ত যতগুলো আসনে নির্বাচন হয়েছে, সেখান থেকেই বাম ও গণতান্ত্রিক জোট ১০০-র বেশি আসন পাচ্ছে। মানুষের এই জোট ধীরে ধীরে ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছে। ১৯ মে-র পর ধর্ম নিরপেক্ষ নতুন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’’ তাঁর আরও দাবি, মানুষের ভোট দেওয়ার যে প্রবণতা তাঁরা দেখছেন, তাতে তৃণমূল শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারবে না।

চতুর্থ দফায় উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার ৪৯টি আসনে এ দিন ভোট ছিল। বিক্ষিপ্ত কিছু হিংসার অভিযোগ ছাড়া ভোট মিটেছে মোটামুটি শান্তিতেই। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল সিপিএম। সূর্যবাবুর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ১২৪০০টি বুথে নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে বুথ দখল, ছাপ্পা দেওয়ার চেষ্টা, এজেন্টদের মেরে বার করে দেওয়া, ভোটারদের হুমকি দেওয়া, প্রার্থীকে আক্রমণ— এ সব যা ঘটনা ঘটেছে, তা সব মিলিয়ে মোট বুথের এক শতাংশের বেশি হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘এই ভোটে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন মানুষ। প্রথম থেকেই আমরা এটা বলে আসছিলাম। এ বারের পর্বে এসে মানুষ আরও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা কী চান।’’

সূর্যবাবু এ দিন আলাদা করে সেলাম জানিয়েছেন হালিশহরের দেবশ্রী ঘোষকে। তার তিন বছরের শিশুকন্যা আক্রান্ত হাওয়ার পর সে আধো আধো গলায় অভিযোগ জানিয়েছে, তার পরেও তার মা বলেছেন, ‘প্রাণ গেলেও তিনি বুথে গিয়ে ভোটটা দেবেন।’ এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট দিয়েছেন। সূর্যবাবুর কথায়, ‘‘এই মা-ই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁকে সেলাম জানাচ্ছি। আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যদি বিবেচনা বোধ থাকে, তা হলে ওই শিশুটির মুখে অভিযোগ শোনার পর তার রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার কথা।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে মুখ্যমন্ত্রী ব্যবস্থা নিন। আর না পারলে, ১৯ মে পর্যন্ত আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করব। তার পরে নতুন সরকার এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’’
২০০-র দাবি সূর্যর, ফুত্‍‌কারে ওড়ালেন মমতা

২০০-র দাবি সূর্যর, ফুত্‍‌কারে ওড়ালেন মমতা

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হওয়ার পরেই রাজ্যে পালাবদল নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন সূর্যকান্ত মিশ্র। সোমবার চতুর্থ দফা ভোটশেষে সিপিএমের সেই নেতাই, জোটের অন্যতম কান্ডারি, জোর গলায় দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করে, জোট আসছে ক্ষমতায়। সেই সূত্রেই তাঁদের লক্ষ্য যে ২০০, তা স্পষ্ট করেন। দাবি করেন, একশো আসন আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। 

'সন্ত্রাস' 'হুমকি'কে উপেক্ষা করে জোটকে ভোট দেওয়ার জন্য, বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেননি সিপিএমের এই নেতা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সূর্যকান্ত বলেন, এ বারের ভোটটা শাসকদলের সঙ্গে নির্বাচকমণ্ডলীর। আমাদের লক্ষ্য এখন ২০০। 

বাম নেতার দু'শোর দাবি, ফুত্‍‌কারে উড়িয়ে দেন শাসকদলের সাংসদ মুকুল রায়। তাঁর পালটা কটাক্ষ, সূর্যবাবুরা যদি ২০০ আসনই পান, তা হলে কমিশনে এত এত অভিযোগ করছেন কেন?




মুকুলের দাবি, সূর্যকান্ত মিশ্র নিজেই হারবেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর দলও পরাস্ত হবে। জোটের দু'শোর আশা উড়িয়ে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির দাবি, নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠা পেয়ে তৃণমূলই আবার রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় ফিরবে। 

অন্য দিকে, পাটুলির সভায় এদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, চতুর্থদফা পর্যন্ত যা ভোট হয়েছে, তাতে আমরাই সরকার গড়ব। বাকি দুটি দফায় বিরোধীদের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়বে। তাঁর দাবি, গতবারের থেকে আসন আরও বাড়বে। 

দীর্ঘসময় ধরে ভোট করানোর জন্য এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন শাসকদলের সুপ্রিমো।